Categories
অনলাইন ইনকাম

টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা- শূন্য থেকে সফল

টেন মিনিট স্কুল বাংলাদেশের একটি ই-লার্নিং হাইটেক প্ল্যাটফর্ম যাত্রা শুরু থেকে এই প্লাটফরমটি অনলাইনে ক্লাস এবং ভিডিওর মাধ্যমে ফ্রি এডুকেশন সার্ভিস দিয়ে আসছে। একাডেমিক পিকচার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি টেস্ট প্রিপারেশন ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিল ডেভলপমেন্ট ও চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক কোর্স অফার করছে প্লাটফর্ম টি। বর্তমানে টেন মিনিট স্কুলের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপস মিলিয়ে এক কোটি ৫০ লক্ষের বেশি সাবস্ক্রাইবার ছাড়িয়েছে। এছাড়া তাদের সবগুলো চ্যানেল মিলিয়ে প্রায় ২০,০০০ ভিডিও টিউটোরিয়াল এবং প্রায় ৫০,০০০ কুইজ এর পাশাপাশি তাদের ওয়েবসাইটে ১১,০০০ বেশি ব্লক রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৬০ জন এমপ্লয়ি কর্মরত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তারা আরও বেশ কয়েকটি সার্ভিস নিয়ে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক মার্কেটকে লিড করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

টেন মিনিট স্কুলের কথা বলতে গেলে শুরুতেই চলে আসবে আয়মান সাদিকের নাম ১৯৯২ সালের দোসরা সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনে আয়মান ঢাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও পরবর্তীতে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১২ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইবাআ তে ভর্তি হন।

আইবিতে পড়াশোনা কালীন মেন্টরস হিসেবে এ ক্লাস নিতে শুরু করেন তিনি। তার পড়ার ধরন স্টুডেন্টরা বেশ পছন্দ করত যা পরবর্তীতে তাকে শিক্ষকতার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। মেন্টরস এ পড়াশোনা করারনোর পর আইমান খেয়াল করে দেখেন প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে কিন্তু পাবলিক ভার্সিটি গুলোতে আসন সংখ্যা মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার কোচিং থেকে শুরু করে আইইএলটিএসের প্রেপারেশন সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর টাকার অভাবে ঢাকায় এসে ভালো কোচিং করতে পারছে না।

টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা!

ফলে মেধা থাকা সত্বেও রিমোট এরিয়া শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন নিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনা। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আয়মান এমন একটি প্লাটফ্রম তৈরি করার চিন্তা করেন যেখানে ফ্রিতে দেশের যে কোন অঞ্চল থেকেই যে কেউ সেম লেভেল এডুকেশনের সুযোগ পাবে। আইপিওতে পড়াশোনাকালীন সময়ে একাউন্টিং সাবজেক্ট এর নানান সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়েই ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুঁজে পান। টেন মিনিট স্কুলের আইডিয়া মূলত তিনি সেখান থেকেই পান। সেই থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান এর আইডি নিয়ে তিনি ভাবতে শুরু করেন।

আইমান খেয়াল করে দেখলেন যেসব আইবিএ-তে ভর্তি পরীক্ষার জন্য যে সকল বিষয়গুলো একজন শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় তা সরকারি বেসরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলো দেবে বেশি কাজে লাগে। এই বিষয়গুলো নিয়ে একটি মোকআপ তৈরি করেন এবং সেই থেকে যাত্রা শুরু হয়। তার এই মাকআপ টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে তাদের কাছে বেশি পছন্দ হলে তিনি চেন্নাই স্কুলের একটি ওয়েবসাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম অবস্থায় ওয়েবসাইট তৈরি করার ইনিশিয়াল অর্থ আইমান নিজেই জোগাড় করেন। কোচিং এর ক্লাস নেয়া থেকে শুরু করে টিউশনি থেকে আয়কৃত অর্থের টেন মিনিট স্কুলের ইনিশিয়াল ফান্ডিং করেন তিনি।

শুরু থেকে ওয়েবসাইটটি বানাতে গিয়ে আয়মান বেশ কয়েকবার সমস্যার মুখে পড়লেও আসা হয়নি শেষ পর্যন্ত ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে বানানো কাজ শুরু করেন। আইবিএ তে ভর্তি হওয়ার নতুন ব্যাচ থেকে ৯ জনের একটা টিমকে ইংরেজি ,গণিত এক দায়িত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী বছর ২০১৫ সালের ১০ ই মে টেন মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইট লঞ্চ করার কথা থাকলেও টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তার সম্ভব হয়নি।পরে তার লঞ্চ ডেট পিছিয়ে ১৭ তারিখে করা হয়। ১৭ তারিখে ওয়েবসাইট লঞ্চ করার পরে ২০ মিনিটের মধ্যে আবারও টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয় তখন তারা সবাই মিলে ওয়েবসাইটটা বন্ধ না করে সবাই মিলে কাজ করে তা সমস্যার সমাধান করে। সেই মাসের আগস্ট এর ১২ তারিখের টেন মিনিট স্কুলের ইউটিউব চ্যানেল খোলা হয়।ইউটিউব চ্যানেলে তাদের প্রথম ভিডিওটি ছিল ওয়ান ফর্মুলায় রুল দেন অল বা ফর্মুলা কিন্তু একটা।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও টেন এমএমএস উত্থানে যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে যখন আইসিটি ডিভিশন এর সাথে কলাবরেশন এর ফলে তাদের ক্লাস এবং ফিজিও গুলোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্কুলে পাঠদান করা হতো। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বুৎস্ত্রাপিং করে এগিয়ে যাচ্ছিল যার জন্য তারা বাইরে থেকে কোন ফাইন্ডিংস নেয়নি। এছাড়া শুরু থেকেই প্রিমিয়াম মডেল ফলো করে তাদের ফিক্স কোন রেভিনিউ স্ট্যাম্প ছিল না। ২০১৬ সাল থেকে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডের টেন মিনিট স্কুলে সর্বপ্রথম স্পন্সার হয়।

তারপর থেকে এই প্লাটফরমটি ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস চলে আসে এবং রেস্ট্রিম নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয়নি। তখন থেকেই তাদের কার্যক্রম আরো ফাস্ট হয়ে ওঠে এবং এবং তাদের কনটেন্টের সংখ্যা ও তাদের লাইভ ক্লাসে সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ও দেশব্যাপী নতুন নতুন শিক্ষক যুক্ত হতে থাকে। এছাড়াও স্কুল-কলেজের কারিকুলামের বাইরে অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে দেশের বিভিন্ন এক্সপার্টদের সাথে নিয়ে ভিডিও ক্রিয়েট করতে শুরু করে টেন মিনিট স্কুল। ২০১৭ সালে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত জনতা টাওয়ার একটি স্টুডিওতে টেন মিনিট স্কুল তাদের প্রথম অফিস কার্যক্রম শুরু করে।এছাড়া ২০২১ সালে তার প্রথম হার্ডকপি বই বাজারে নিয়ে আসে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রকমারিতে বেস্ট জায়গা করে নেয়।

বর্তমানে ঢাকায় টেন মিনিট স্কুলের মোট ৬ টি অফিস রয়েছে। বিভিন্ন স্কুলের প্রফেশনালটিচারদেরকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মের যুক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরের এক্সপার্টদেরকে তাদের প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। যা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম এই সফলতা অ্যাচিভ করতে পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.